ইতালিতে সেতুধসে জরুরি অবস্থা জারি Reviewed by Momizat on . কেন সেতুটি ধসে পড়ল, সেই কারণ এখনো জানা যায়নি। ইতালির জেনোয়ায় সেতুধসে মৃত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৩৯-এ পৌঁছেছে। ঘটনার পর লিগুরিয়া অঞ্চলে পরবর্তী ১২ মাসের জন্য জরুরি কেন সেতুটি ধসে পড়ল, সেই কারণ এখনো জানা যায়নি। ইতালির জেনোয়ায় সেতুধসে মৃত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৩৯-এ পৌঁছেছে। ঘটনার পর লিগুরিয়া অঞ্চলে পরবর্তী ১২ মাসের জন্য জরুরি Rating: 0
You Are Here: Home » আন্তর্জাতিক » ইতালিতে সেতুধসে জরুরি অবস্থা জারি

ইতালিতে সেতুধসে জরুরি অবস্থা জারি

ইতালিতে সেতুধসে জরুরি অবস্থা জারি

কেন সেতুটি ধসে পড়ল, সেই কারণ এখনো জানা যায়নি।

ইতালির জেনোয়ায় সেতুধসে মৃত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৩৯-এ পৌঁছেছে। ঘটনার পর লিগুরিয়া অঞ্চলে পরবর্তী ১২ মাসের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী জুজেপ্পে কনদে। দুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রাথমিক একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত মঙ্গলবার ‘মরান্ডি ব্রিজ’ খ্যাত সেতুর একাংশ ধসে পড়ে। বেশ কয়েকটি গাড়ি ১০০ মিটার ওপর থেকে নিচে পড়ে যায়। এতে অনেকে হতাহত হন। বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫ জন চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে নয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কিছু মানুষ চাপা পড়ে আছে বলে জানান উদ্ধারকারীরা। তিন দিন হয়ে যাওয়ায় তাঁদের বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কয়েক হাজার কর্মী উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। সেতুর অন্য অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কায় ওই এলাকা থেকে অনেক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ইতালির নাগরিক। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁদের চারজন নাগরিক আছেন বলে নিশ্চিত করেছে। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের তিন সদস্য রয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় ইতালির উঠতি এক খেলোয়াড়ও রয়েছেন।

দুর্ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে ছিলেন ইতালির সাবেক এক ফুটবলার ডেভিড কাপেলো। সেতু ধসে পড়ার সময় তাঁর গাড়ি ৩০ মিটার নিচে পড়ে। তবে সৌভাগ্যজনকভাবে তিনি গাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, ‘আমি বের হতে পেরেছিলাম। আমি এখনো জানি না, এত নিচে পড়েও কেন আমার গাড়ি ভাঙেনি। মনে হচ্ছিল কোনো সিনেমার ঘটনা।’

ভালেন্তিনা গালবুসেরা নামের এক ডাক্তার তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায় বলেন, মাত্র ২০ মিটার দূরে ছিল আমার গাড়ি। কয়েক সেকেন্ডের জন্য বেঁচে গেছি।

মঙ্গলবার দুর্ঘটনার সময় ওই অঞ্চলে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে ঠিক কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নির্ণয় করা এখনো সম্ভব হয়নি। বেসরকারি কোম্পানিকে এই সেতু পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে সরকারের সমালোচনা করছেন অনেকে।

ইতালির জেনোয়ায় একটি সেতুধসে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। 

১৯৬০ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সময়ে নির্মিত হয় মরান্ডি সেতু। সাধারণত, ১০০ বছর স্থায়ী হবে—এমন পরিকল্পনা নিয়ে একটি সেতু তৈরি করা হয়। ১৯৯০ সালে সেতুটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশে মেরামত করা হয়। ২০১৬ সালেও একবার সংস্কারকাজ করা হয়। স্থানীয় বন্দরের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। জেনোয়ায় অন্যতম প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত এই সেতু। সড়কটি ইতালি রিভেরা থেকে দক্ষিণ ফ্রান্সের সঙ্গে সংযুক্ত। সেতুর একটি অংশ পলসেভেরা ওয়াটার ওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত। অন্য অংশ গেছে রেললাইন ও বাড়িঘর পর্যন্ত।

১ হাজার ১৮২ মিটার লম্বা এই সেতুর ১২ মিটার ধসে পড়ে। পুলিশ বলছে, ধসে পড়ার সময় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান রক্ষণাবেক্ষণের কাজ এই পতনের একটি কারণ হতে পারে। অনেকে বলছেন, নকশায় ত্রুটি ও প্রতিদিন সামর্থ্যের চেয়ে অতিরিক্ত যান চলাচলের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবছর প্রায় আড়াই কোটি যান চলে এই সেতুর ওপর দিয়ে।

২০১১ সালে ইতালির হাইওয়ে কোম্পানি জানায়, সেতুটি ক্ষয়ের মুখে পড়েছে। জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো প্রকৌশলী বিভাগের শিক্ষক অ্যান্তনিও ব্রেনসিক ২০১৬ সালে সেতুটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, সেতুটি পরিচালনায় আরও বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন। এ ছাড়া সংস্কারকাজেও আরও অর্থায়ন দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি। সে সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সেতুতে অনেক ত্রুটি রয়েছে। আগে হোক বা পরে হোক, এটি নতুন করে ঠিক করতে হবে।

About The Author

Number of Entries : 2048

Leave a Comment

মুক্তগাছা ভবন, বাড়ি নং -১৩, ব্লক -বি, প্রধান সড়ক, নবোদয় হাউজিং, আদাবর, ঢাকা-১২০৭; সম্পাদক ও প্রকাশক; আলহাজ্ব মোঃ সাদিকুর রহমান বকুল ; জাতীয় দৈনিক আজকের নতুন খবর;

Scroll to top