নতুন কৌশলে পুরোনো ‘কালোবাজারি’ Reviewed by Momizat on . কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে টিকিট প্রত্যাশী মানুষের উপচে পড়া ভিড়।  ১৮ আগস্টের রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট কিনতে দুই বন্ধুর সঙ্গে বুধবার রাত সাড়ে আটটা কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে টিকিট প্রত্যাশী মানুষের উপচে পড়া ভিড়।  ১৮ আগস্টের রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট কিনতে দুই বন্ধুর সঙ্গে বুধবার রাত সাড়ে আটটা Rating: 0
You Are Here: Home » জাতীয় » নতুন কৌশলে পুরোনো ‘কালোবাজারি’

নতুন কৌশলে পুরোনো ‘কালোবাজারি’

নতুন কৌশলে পুরোনো ‘কালোবাজারি’

কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে টিকিট প্রত্যাশী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। 

১৮ আগস্টের রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট কিনতে দুই বন্ধুর সঙ্গে বুধবার রাত সাড়ে আটটায় কমলাপুর স্টেশনে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মারুফ ইসলাম। তখন কাউন্টার ছিল ফাঁকা। এই সুযোগে দাঁড়ান সবার সামনে।

কিন্তু রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে মারুফ ও তাঁর বন্ধুদের সামনে দাঁড়িয়ে যান ‘টোকেন’ নেওয়া অন্তত ৪০ ব্যক্তি। আর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় কাউন্টার খোলার পর মারুফদের সামনেই লাইনে ঢুকে যান ‘টোকেনধারী’ আরও অন্তত ১৫ জন। সারা রাত লাইনে দাঁড়িয়ে মারুফরা টিকিট পান বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় সোয়া ১০টার দিকে।

মারুফ বলছিলেন, ‘আমার টিকিট পাওয়ার কথা কাউন্টার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই। অথচ টোকেন না নেওয়ায় আগে এসেও টিকিট পেলাম দেরিতে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে দাঁড়ানো অন্তত ১৫ জন টিকিটপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ‘টোকেনধারী’ কিছু ব্যক্তি হঠাৎ এসে এভাবে তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে।

পরে জানা গেল, এই ‘টোকেন’ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দেয় না। কিছু ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে সিরিয়াল দিয়ে টিকিটপ্রত্যাশীদের টোকেন দেন। তাঁরা নিজেদের নাম সিরিয়ালে সবার আগে রাখেন। পরে দিনভর স্টেশনে ঘুরে ঘুরে পরের তারিখের টিকিটপ্রত্যাশীদের নাম লিখে টোকেন দেন। কাউন্টার খোলার পর সিরিয়াল দেওয়া ব্যক্তিরা আগে টিকিট পান। তাঁরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগির টিকিট কিনে নেন। পরে সেই টিকিট চড়া দামে বিক্রি করেন।

কয়েকজন টিকিটপ্রত্যাশী বলেন, দল ভারী করার জন্যই ‘কালোবাজারিরা’ সাধারণ টিকিটপ্রত্যাশীদেরও টোকেন দেন। অনেক লোক একসঙ্গে লাইনে দাঁড়াতে এলে অন্যরা স্বাভাবিকভাবেই পেছনে সরে যান।

গতকাল দুপুরে দেখা যায়, কাউন্টারের বাইরে বিভিন্ন তারিখের টিকিটপ্রত্যাশীদের নাম খাতায় লিখে নিচ্ছিলেন কয়েকজন টোকেনদাতা। পাঁচ থেকে সাতজন ব্যক্তি আলাদাভাবে ১৯,২০ ও ২১ তারিখের টিকিটপ্রত্যাশীদের লাইনে দাঁড়ানোর সিরিয়াল দিচ্ছেন। খাতায় লিখে রাখছেন সিরিয়াল নম্বর, নাম ও মুঠোফোন নম্বর।

পরিচয় না জানিয়ে এই প্রতিবেদক সিরিয়াল নেওয়ার জন্য যান আসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছে। গন্তব্য জিজ্ঞেস করে প্রতিবেদককে একটি সিরিয়াল নম্বর দেন তিনি। আলাপের একপর্যায়ে আসলাম নিজেকে মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন।

আসলাম নামের ওই ব্যক্তি বলেন, ঈদে তিনি বাড়ি যাবেন না। ১৯ তারিখের টিকিট কিনতে এসেছেন অফিসের বড় কর্মকর্তাদের জন্য।

সারা দিন ঘুরে ঘুরে মানুষকে সিরিয়াল দিয়ে আপনার লাভ কী? এমন প্রশ্ন করার পর আসলাম বলেন, ‘অত কথা বলে লাভ কী। আপনাকে সিরিয়াল দিছি। রাতে এসে কাউন্টারের সামনে দাঁড়াইয়েন।’

১৫ নম্বর কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ানো রিয়াদ হোসেন নামে একজন বলেন, ‘এই লোকগুলো রেলওয়ের কেউ না। অথচ সারা দিন স্টেশনে ঘুরে ঘুরে সিরিয়াল নম্বর দিচ্ছেন। একজন মানুষ নিজের কাজ ফেলে বিনা মূল্যে কেন এমন করবেন?’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্ত্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘লাইনে দাঁড়ানোর জন্য কে কী করছে সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। কোনো বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে জন্য আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী আছে। টোকেন দিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর বিষয়ে আমরা অবগত না।

এ বিষয়ে কথা বলতে কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন ফারুকের সঙ্গে গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দ্বিতীয় দিনের টিকিট বিক্রি
ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে প্রথম দিনের চেয়ে বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৬টি কাউন্টার মিলিয়ে টিকিট বিক্রি হয়েছে ২৬ হাজার ৮৯৫টি। গতকাল দেওয়া হয়েছে ১৮ আগস্টের টিকিট। টিকিট পেতে রাত থেকেই ভিড় ছিল টিকিটপ্রত্যাশীদের। দুপুর নাগাদ এই ভিড় অনেকটাই কমে যায়। আজ বিক্রি হবে ১৯ আগস্টের টিকিট।

About The Author

Number of Entries : 1608

Leave a Comment

মুক্তগাছা ভবন, বাড়ি নং -১৩, ব্লক -বি, প্রধান সড়ক, নবোদয় হাউজিং, আদাবর, ঢাকা-১২০৭; সম্পাদক ও প্রকাশক; আলহাজ্ব মোঃ সাদিকুর রহমান বকুল ; জাতীয় দৈনিক আজকের নতুন খবর;

Scroll to top