ঢাকাসহ বড় শহরগুলো অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে Reviewed by Momizat on . নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আটককৃত শিক্ষার্থীদের গতকাল বিকেলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।  স্কুল-কলেজ খুলেছ নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আটককৃত শিক্ষার্থীদের গতকাল বিকেলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।  স্কুল-কলেজ খুলেছ Rating: 0
You Are Here: Home » বাংলাদেশ » ঢাকাসহ বড় শহরগুলো অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে

ঢাকাসহ বড় শহরগুলো অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে

ঢাকাসহ বড় শহরগুলো অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আটককৃত শিক্ষার্থীদের গতকাল বিকেলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। 

  • স্কুল-কলেজ খুলেছে
  • গণপরিবহন নামছে রাস্তায়
  • মামলা-গ্রেপ্তার চলছে
  • ১৬ থানায় ৩৪টি মামলা
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্র রিমান্ডে
  • সরকার কঠোর অবস্থানে

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা ৯ দিনের আন্দোলনের পর ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। যদিও শিক্ষার্থী ও তরুণ-যুবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অস্বস্তি আছে। তবে সরকার মনে করছে, পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, দাবি মেনে নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিগগিরই মাঠে নামছে না। এখন যদি কেউ কিছু করার চেষ্টা করে, তা হবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার।

এদিকে ৯ দিনের ঘটনা নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৩৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৯ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সোমবার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিংস ঘটনায় গ্রেপ্তার করা ২২ জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রিমান্ডের আবেদনে পুলিশ মামলার পলাতক আসামিদের ‘জঙ্গি’ বলে উল্লেখ করেছে।

এদিকে গত দুই দিনে বেসরকারি একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ এবং দুটি প্রতিষ্ঠানের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণার মধ্যে আজ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই এই বৈঠকের লক্ষ্য।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে
গতকাল রাজধানীর স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। সোমবারের সহিংস ঘটনার কারণে কেবল বেসরকারি নর্থ সাউথ ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল ছুটি ছিল। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ক্লাস হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল না।

গতকাল নগরে গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকলেও আগের দিনের চেয়ে তা বেড়েছে। গত রোববার থেকে ঢাকায় ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করছে পুলিশ। তাতে রাস্তায় যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। এ কারণেও অনেক বাস রাস্তায় নামছে না। এর সত্যতা পাওয়া যায় যানবাহনের কাগজপত্র ঠিক করতে বিআরটিএতে ভিড় দেখে। সরকার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিআরটিএ অফিস খোলা রেখে গাড়ির কাগজপত্র ঠিক করার চাপ সামাল দিচ্ছে।

মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায় শিক্ষার্থীরা। গতকাল তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায়। গ্রেপ্তার, হয়রানি
শিক্ষার্থীরা গতকালও বলেছেন, পুরো পরিস্থিতি তাঁদের বিক্ষুব্ধ করেছে। বিশেষ করে পুলিশের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলা শিক্ষার্থীসহ তরুণ-যুবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

এদিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ছাত্র প্রথম আলোর কাছে এই অভিযোগ করেছেন। আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র গত সোমবার শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে আটক হন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয়। ওই ছাত্র প্রথম আলোকে বলেন, আটকের পর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার হাজতে তাঁকেসহ আরও ৪০-৪২ জনকে রাখা হয়। রাতে তাঁদের কিছু খেতে দেওয়া হয়নি। সবারই ছাত্রত্ব যাচাই করা হয়েছে। মুঠোফোন ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করা হয়েছে। গতকাল সকালে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রগুলো জানায়, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের লাভ রোড এলাকায় আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে ৩৭ জনকে আটক করা হয়। পরিচয় যাচাই শেষে গতকাল সকালে অভিভাবকের কাছে তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৬ থানায় ৩৪টি মামলা, ২২ জন রিমান্ডে
ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, ২৯ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৬টি থানায় ৩৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৯ জনকে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলা রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে। এই পাঁচ মামলার ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার মধ্যে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ও অভিনয়শিল্পী কাজী নওশাবা আহমেদও রয়েছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে স্কুল-কলেজের কোনো শিক্ষার্থী নেই।

ধানমন্ডি থানা নয়জন স্থপতিসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আটক করেছিল। মঙ্গলবার রাতেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত সোমবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রামপুরা এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ শতাধিক জনকে আটক করেছিল। এর মধ্য থেকে যাচাই শেষে বাড্ডা ও ভাটারা থানার মামলায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের পৃথক দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ২২ ছাত্রের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গ্রেপ্তারকৃতরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথইস্ট এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এর মধ্যে বাড্ডা থানার মামলায় ১৪ জন এবং ভাটারা থানার মামলার আসামি ৮ জন। পুলিশ তাঁদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গতকাল বেলা তিনটার দিকে তাঁদের আদালতের এজলাসে তোলার সময় স্বজনদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছাত্ররা। তাঁদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, পুলিশ ধরে নিয়ে থানায় ফেলে নির্যাতন করেছে। ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে কয়েজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে পুলিশ বলছে, সংঘর্ষ চলাকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাড্ডা থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর ও বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন দেওয়ারও চেষ্টা চালায় তারা। পলাতক বাকি আসামিরা জঙ্গিগোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বৈঠক আজ
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী আজ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বসছেন। জানতে চাইলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবীর হোসেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রিসভা সড়ক পরিবহন আইনের খসড়াটির অনুমোদন দিয়েছে। অন্যান্য দাবিও পূরণ করছে। তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল। এখন সেটাও ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল। আমরা সব দিক থেকে প্রস্তুত আছি। যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’ তিনি বলেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে তথ্য ও যোগাযোগ আইন মামলা দেওয়া হবে। ছাত্র হোক, শিক্ষক হোক বা রাজনৈতিক দলের নেতা হোক, পার পাবে না। এ ছাড়া রাজপথে যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারা অরাজকতা তৈরি করেছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের গায়ে হাত তুলে যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছে, তারাও পার পাবে না, তাদের পক্ষে যত তদবিরই আসুক, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে লেখক ও অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীরা চোখে আঙুল দিয়ে নৈতিক স্খলনের জায়গাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে। এই আন্দোলন শুধুই নিরাপদ সড়কের জন্য ভাবলে হবে না, তাদের ক্ষোভের উৎসগুলো খুঁজে বের করে প্রশমনের ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা যেন শাস্তি না পায়, শিক্ষক হিসেবে সবার কাছে এই অনুরোধ থাকল। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হাতেই থাকতে হবে। কোনো ছাত্র বা শ্রমিক সংগঠনের হাতে নয়। সর্বোপরি সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে পরিবেশ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

About The Author

Number of Entries : 2324

Leave a Comment

মুক্তগাছা ভবন, বাড়ি নং -১৩, ব্লক -বি, প্রধান সড়ক, নবোদয় হাউজিং, আদাবর, ঢাকা-১২০৭; সম্পাদক ও প্রকাশক; আলহাজ্ব মোঃ সাদিকুর রহমান বকুল ; জাতীয় দৈনিক আজকের নতুন খবর;

Scroll to top