বাংলাদেশের গর্বিত পদচারণা Reviewed by Momizat on . বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের পরিচালকেরাএবারের বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের ২৩তম আসর। এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা ওঠে ৪ অক্টোবর। প্রায় ৬ হাজার বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের পরিচালকেরাএবারের বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের ২৩তম আসর। এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা ওঠে ৪ অক্টোবর। প্রায় ৬ হাজার Rating: 0
You Are Here: Home » বিনোদন » বাংলাদেশের গর্বিত পদচারণা

বাংলাদেশের গর্বিত পদচারণা

বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের পরিচালকেরাএবারের বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের ২৩তম আসর। এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা ওঠে ৪ অক্টোবর। প্রায় ৬ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে বিশ্বের নানান দেশের অতিথিরা রেড কার্পেটে অংশ নেন। তারপর জাপানি অস্কার বিজয়ী সংগীত পরিচালক রিয়চি সাকামাতোর পিয়ানোর মূর্ছনায় শুরু হয় উৎসব। আমি ব্যক্তিগতভাবে বুসান উৎসবে এসেছি অনেকবার। ২০১০ সালে এশিয়ান ফিল্ম একাডেমিতে, ২০১১ সালে এশিয়ান প্রজেক্ট মার্কেটে, ২০১২ সালে এশিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে দ্য কন্টেইনার নিয়ে, ২০১৪ সালে জালালের গল্প নিয়ে ‘নিউ কারেন্টস’ প্রতিযোগিতা বিভাগে, ২০১৭ সালে এশিয়ান ফিল্ম একাডেমির ‘টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে এবং এই বছর ইতি, তোমারই ঢাকা নিয়ে। বাংলাদেশের প্রথম অ্যান্থলজি বা অমনিবাস চলচ্চিত্র এই ছবিটি। ১১ তরুণ নির্মাতার স্বল্পদৈর্ঘ্যে রাজধানী ঢাকার গল্প। গত এপ্রিল মাসের ১২ তারিখে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয় চ্যানেল আইয়ের ছাদবারান্দায়। মাত্র ৬ মাসেরও কম সময়ে এই প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হয়েছে দিন-রাত। কিন্তু সব শ্রম সার্থক মনে হয়েছে ৭ অক্টোবর বুসানের লত্তে সিনেমায় প্রায় হাউসফুল শোতে প্রথমবার ছবিটির প্রদর্শনীর সময়। ওই দিন ছিল আমাদের প্রথম প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। আগের রাতে টাইফুন কোংরের কারণে বুসানের দিকে আসা সব ফ্লাইট বাতিল করে দেয়। আমাদের নির্মাতাদের মধ্যে নানা কারণে শেষ পর্যন্ত কেবল চারজন উৎসবের দিকে রওনা হন। কিন্তু টাইফুনের কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাঁদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল চীনে।

৭ তারিখ এয়ারপোর্ট থেকে রাহাত রহমান, নুহাশ হুমায়ূন, মাহমুদুল ইসলাম ও মীর মোকাররম হোসেন সরাসরি চলে আসেন সিনেমা হলে। ইতিমধ্যে প্রশ্ন–উত্তর পর্ব শুরু হয়ে গেছে। ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার হিসেবে ছবিটি সম্পর্কে আমি নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলাম। ওদের আগমনের পর প্রশ্ন এত বেড়ে গেল যে শেষ পর্যন্ত আমরা অনেকের কাছ থেকে আর প্রশ্ন নিতে পারিনি। ছবিটির গল্প সম্পর্কে এখনই কোনো আগাম তথ্য দিতে চাই না। কিন্তু এই ছবির বিশ্ব প্রিমিয়ারের দিনটি আমাদের সবার জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কেননা ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিটে একের পর এক ১১ নির্মাতার নিজের স্টাইলে বানানো ১১ ঢঙের গল্প দেখে যাওয়া যথেষ্ট ধৈর্যের কাজ। তাও সেটা যদি দেখতে হয় সাবটাইটেল দেখে। কিন্তু যেহেতু এই প্রকল্পের সব নির্মাতাই অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে নিজের অংশটুকুর কাজ করেছেন, তাই গল্পের গাঁথুনিতে যাঁর যাঁর অংশে তাঁর নিজের ডিরেক্টিং স্টাইল সুস্পষ্ট। বাংলাদেশ থেকে এত দূরে বুসান উৎসবে তাই হয়তো এই শোয়ের জন্য টিকিট আগাম বিক্রি হয়ে যায়। প্রশ্ন–উত্তর পর্বেও দর্শক গভীর আগ্রহে জানতে চান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সম্পর্কে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নিয়ে গর্ব করার মতো অনেক ঘটনাই কিন্তু ঘটছে। যেমন এবার বুসান উৎসবের এশিয়ান প্রজেক্ট মার্কেটে অংশ নিয়েছে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ছবি আই সি ওয়েভস লাইভ ফ্রম ঢাকা চলচ্চিত্রের পর সাদ তাঁর এই দ্বিতীয় সিনেমার জন্য ইতিমধ্যে বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে ‘এশিয়ান সিনেমা ফান্ড (এসিএফ) পেয়েছেন। রুবাইয়্যাত হোসেনের ছবি মেড ইন বাংলাদেশ এবং রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের নোনাজলের কাব্য ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের সম্মানজনক ‘সি এন সি’ ফান্ড পেয়েছে। রুবাইয়্যাতের মেড ইন বাংলাদেশ আরও পেয়েছে নরওয়ের সোর ফান্ড, টরিনোর অডিয়েন্স ডিজাইন ফান্ড, লোকার্নোর ওপেন ডোরসে আর্তে পুরস্কারসহ আরও অনেক কিছু। সরয়ার ফারুকী একের পর এক নির্মাণ করে চলেছেন আমাদের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রগুলো। বিজন-আরিফ মাটির প্রজার দেশের পর তাঁদের দ্বিতীয় ছবি প্যারাডাইস নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। কামার আহমেদ সাইমন ও সারা হোসেনের কাছ থেকে আমরা যেকোনো মুহূর্তে হয়তো শুনব বিরাট কোনো ভালো খবর। মাহাদি স্যান্ড সিটির জন্য পেয়েছেন লোকার্নো উৎসবের সম্মানজনক আর্তে পুরস্কার। এ রকম আরও অনেকের প্রজেক্টের কথা আমি জানি, যাঁরা আস্তে আস্তে নিজের স্বপ্নের বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছেন।

 অনেক তরুণ নির্মাতার প্রামাণ্য চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিচ্ছে নিয়মিতভাবে। আমার মতে, তাই বাংলাদেশের স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রে এ সময়টি উল্লেখযোগ্যভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু এই স্বাধীন স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারকে আরেকটু এগিয়ে আসতে হবে। ভারতে ‘এ’ লিস্ট ফেস্টিভ্যালগুলোতে অংশগ্রহণ করলে আর্থিকভাবে সরকার থেকে সহায়তা করা হয়, উৎসবে ছবিটির প্রচারণার জন্য। বুসান উৎসবের উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম। আমার বিশ্বাস, এ রকমভাবে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিতি তরুণ নির্মাতাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে এখন ভ্যারাইটির মতো পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করে। যেমন বুসান উৎসবের প্রথম দিন ইতি, তোমারই ঢাকা নিয়ে ভ্যারাইটি তাদের অনলাইন এবং প্রিন্ট সংস্করণে খুব গুরুত্বের সঙ্গে এই ছবির বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। উৎসবে এবার আরও তিনটি দেশের অমনিবাস চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। টেন ইয়ারস-জাপান, টেন ইয়ারস-তাইওয়ান ও টেন ইয়ারস-থাইল্যান্ড–এর সঙ্গে বাংলাদেশের অমনিবাস নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭ অক্টোবর। ‘মেকিং অমনিবাস ইন এশিয়া’ শিরোনামে এই প্যানেল বৈঠকে এ ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা এবং পারস্পরিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে কীভাবে নিজ নিজ দেশের ছবি এগিয়ে যাছে, এ বিষয় নিয়ে আমরা বিশদ আলোচনা করেছি। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য এই পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। সবার বক্তব্যে বারবার এ কথাটিই উঠে এসেছে।

বুসান উৎসবের মতো জায়গায় বাংলাদেশের এত নির্মাতার পদচারণ আমাকে সাহসী করে। স্বপ্ন দেখায় নতুন আগামীর। এই লেখা যখন লিখছি, তার কিছুক্ষণ পর শুরু হবে আমাদের ইতি, তোমারই ঢাকা দ্বিতীয় শোয়ের পর প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। ১১ অক্টোবর আরও একটি স্ক্রিনিং আছে। একসঙ্গে তরুণ এই ১১ নির্মাতার ছবি দর্শক মহলে যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে তাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও প্রোগ্রামারদের মধ্যে আগ্রহ আগের চেয়ে আরও বেড়ে গেছে। আমাদের সরকার, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর হলমালিকেরা আরেকটু এগিয়ে এলে এই নতুন ধরনের ছবি একসময় বাংলাদেশকে আরও গর্ব করার মতো জায়গায় নিয়ে যাবে। সেদিন হয়তো খুব দূরে না, যেদিন কান উৎসবের প্রতিযোগিতায় থাকবে আমাদের চলচ্চিত্র। ভেনিসে পাবে গোল্ডেন লায়ন। কিংবা বিদেশি ক্যাটাগরিতে অস্কার। আমরা হাঁটি হাঁটি পা পা করে ঠিক পথ ধরেই এগোচ্ছি অনেক স্বপ্ন বুকে নিয়ে।

About The Author

Number of Entries : 1608

Leave a Comment

মুক্তগাছা ভবন, বাড়ি নং -১৩, ব্লক -বি, প্রধান সড়ক, নবোদয় হাউজিং, আদাবর, ঢাকা-১২০৭; সম্পাদক ও প্রকাশক; আলহাজ্ব মোঃ সাদিকুর রহমান বকুল ; জাতীয় দৈনিক আজকের নতুন খবর;

Scroll to top