বৃক্ষ নিধনে বিপর্যয়ের মুখে পরিবেশ Reviewed by Momizat on . মানুষের অত্যাচারে প্রকৃতি রুদ্ররূপ ধারণ করেছে!অবাধে বৃক্ষ নিধন আর পাহাড় কাটার ফলেই প্রকৃতি ক্ষেপে ওঠেছে! প্রকৃতির এই রুদ্র আচরণ থেকে পরিত্রাণের জন্য ব্যাপকভাবে মানুষের অত্যাচারে প্রকৃতি রুদ্ররূপ ধারণ করেছে!অবাধে বৃক্ষ নিধন আর পাহাড় কাটার ফলেই প্রকৃতি ক্ষেপে ওঠেছে! প্রকৃতির এই রুদ্র আচরণ থেকে পরিত্রাণের জন্য ব্যাপকভাবে Rating: 0
You Are Here: Home » মতামত » বৃক্ষ নিধনে বিপর্যয়ের মুখে পরিবেশ

বৃক্ষ নিধনে বিপর্যয়ের মুখে পরিবেশ

বৃক্ষ নিধনে বিপর্যয়ের মুখে পরিবেশ

মানুষের অত্যাচারে প্রকৃতি রুদ্ররূপ ধারণ করেছে!অবাধে বৃক্ষ নিধন আর পাহাড় কাটার ফলেই প্রকৃতি ক্ষেপে ওঠেছে! প্রকৃতির এই রুদ্র আচরণ থেকে পরিত্রাণের জন্য ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। খাদ্য, জ্বালানী, আসবাবপত্র তৈরি, গৃহনির্মাণ, ওষুধ, সৌন্দর্যায়ন প্রকৃতির জন্য আমরা গাছ লাগাই। সবচেয়ে বড়কথা গাছ থেকে আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি । আর অক্সিজেনের মাধ্যমে আমরা বেঁচে থাকি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে ইদানীং একটি বিশেষ মহল কর্তৃক সারাদেশেই ব্যাপকভাবে বৃক্ষ নিধন চলছে। বন বিভাগের ফাইলপত্র ও অন্যান্য সূত্র হতে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, দেশের যে সমস্ত এলাকায় কিছু বনাঞ্চল ছিল তা নির্বিচারে কেটে শুধু উজাড়ই করা হচ্ছে না নিশ্চিহ্নও করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুন্দরবন, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষাদি কেটে বনভূমি উজাড়ের খবর দেশের সকল মহলের জানা। এ কাজে বন বিভাগের ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। তার সঙ্গে রয়েছে অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী।প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বনাঞ্চলের বিকল্প নেই। একথা ইতোমধ্যে বিশ্বের সব মানুষ অনুধাবন করতে শুরু করেছে। তাই লাখ লাখ ডলার খরচ করে মধ্যপ্রাচ্যের বালুর পাহাড়ে বৃক্ষচারা রোপণ, পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ করে বনাঞ্চল সৃষ্টি করা হচ্ছে। মরুময় এসব দেশে গাছপালার বদৌলতে বৃষ্টিপাত হতে শুরু হয়েছে। নিত্যদিনের ব্যবহার্য শাক-সবজি আজ তারা নিজেরাই উৎপন্ন করছে। কোন কোন দেশ পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে রফতানীও করছে।সরকার বনভূমি হতে প্রতি বছর বেশ মোটা অংকের রাজস্ব আয় করে থাকেন। এ আয় থেকে অন্তত চার ভাগের এক ভাগও যদি আন্তরিকতা, সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বনাঞ্চল সৃষ্টিতে ব্যয় করতেন তাহলে সবুজ, সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা দেশটির এ জীর্ণশীর্ণ অবস্থা হতো না। আবার কোথাও প্রচুর বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাচ্ছে ক্ষেত, খামার, বাড়িঘর, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি। দেশে জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তন বেশ ভাল করে অনুভব করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ দেশের বনাঞ্চল সংকুচিত হয়ে যাওয়া। নির্বিচারে বন উজাড় ও জনসংখ্যার চাপে দিনে দিনে তা আরো হ্রাস পাচ্ছে। প্রতি বছরই কারণে-অকারণে প্রচুর গাছ কাটা হয়, রোপণ করা হয়, তাও আবার পরিচর্যা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এদিকে বনাঞ্চল বা বনভূমি দিনে দিনে উজাড় হচ্ছে। ফলে বিপদের আশংকা বাড়ছে। কালবৈশাখী ঝড়, সাইক্লোন, অকাল বন্যার তা-ব দেখা দিচ্ছে। এসব প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতে রক্ষার একমাত্র উপায় দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে বনাঞ্চল সৃষ্টি করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধরে রাখা। এদিকে নজর না দিলে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। সমস্যাটি আরো প্রকট হয়ে উঠার পূর্বে আমাদের সচেতনতার সাথে যেখানে সম্ভব বৃক্ষরোপণ করে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বনাঞ্চল সৃষ্টি করতে হবে। অন্যথায় আমাদের মহা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।ইদানীং ইটের ভাটায় অবাধে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন ও নিয়মনীতি না মেনে গড়ে ওঠা পরিবেশ বিধ্বংসী এসব ইটের ভাটা এখন জনমনে আতঙ্ক তৈরী করেছে। ইটভাটার অনুমোদন প্রদান করেন জেলা প্রশাসক। ইটের ভাটায় ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৮৯-এর আওতায় জেলা প্রশাসক ইটভাটার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এককভাবে ক্ষমতাবান। উদ্যোক্তা ইটভাটা নির্মাণের সূচনা করলে তা প্রথমেই নজরে আসে জেলা প্রশাসকের। ইটভাটার লাইসেন্সের আবেদনের সূত্রপাত ঘটে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে। আবার ইটভাটা নির্মাণে জমি দখল ও পরিবেশ দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কান্না, আর্তি ও অভিযোগ সবার আগে পৌঁছে জেলা প্রশাসকের কাছেই। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক ভূমি ব্যবস্থাপনার মূল অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রক। ভুমি নিয়েই ইটভাটার পুরো কর্মযজ্ঞ ও ব্যবস্থাপনা। ইটভাটার জন্য উদ্যোক্তারা জমি ভাড়া, দখল, মাটি কর্তন ও মাটি পুড়িয়েই ইট তৈরি করেন। ইটভাটা এক রাতেই গড়ে ওঠে না। এ বিশাল কার্যক্রম শুরু ও শেষ করতে প্রয়োজন দুই থেকে তিন মাস। এত দীর্ঘ সময়ের মধ্যেও ইটভাটা নির্মাণের অনেক ঘটনা জেলা প্রশাসকদের অগোচরে থেকে যায়। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় ফসলি জমি ভরাট করে, জমিতে গর্ত করে, গ্রামীণ নৈঃশব্দ ভেঙে ইটবাহী ট্রাক চলাচলের রাস্তা তৈরি করে, গাছপালা উজাড় করে এবং পাহাড় কেটে প্রচুর ইটভাটা গড়ে উঠছে। অর্থের প্রয়োজনে ইটভাটা এবং ইটভাটার প্রয়োজনে কৃষি জমি- এ দুইয়ের যোগসূত্র এখন অবিচ্ছিন্ন। ইটভাটার লেলিহান শিখায় মুনাফালোভী ইটভাটার মালিকরা জ্বালিয়ে দিচ্ছে গ্রামবাংলার সবুজ ধানক্ষেত ও চোখ জুড়ানো পরিবেশ। কেড়ে নিচ্ছে মানুষের অনাবিল শান্তি, হরণ করছে স্বস্তি। অবৈধ ইটভাটার আগ্রাসনে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছ সবুজ বন-বনানী। ধ্বংস হচ্ছে অর্থনীতি। ভরাট হচ্ছে নদ-নদী।

About The Author

Number of Entries : 3254

Leave a Comment

মুক্তগাছা ভবন, বাড়ি নং -১৩, ব্লক -বি, প্রধান সড়ক, নবোদয় হাউজিং, আদাবর, ঢাকা-১২০৭; সম্পাদক ও প্রকাশক; আলহাজ্ব মোঃ সাদিকুর রহমান বকুল ; জাতীয় দৈনিক আজকের নতুন খবর;

Scroll to top