যেসব কারণে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সংসদে যাওয়া উচিত Reviewed by Momizat on . বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসময় যে ধারাটি ছিল তা এখন একেবারেই বদলে গেছে। একটি নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচনে সরকারি ও বিরোধী দল কাছাকাছিসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসময় যে ধারাটি ছিল তা এখন একেবারেই বদলে গেছে। একটি নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচনে সরকারি ও বিরোধী দল কাছাকাছিসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হবে Rating: 0
You Are Here: Home » মতামত » যেসব কারণে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সংসদে যাওয়া উচিত

যেসব কারণে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সংসদে যাওয়া উচিত

যেসব কারণে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সংসদে যাওয়া উচিত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসময় যে ধারাটি ছিল তা এখন একেবারেই বদলে গেছে। একটি নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচনে সরকারি ও বিরোধী দল কাছাকাছিসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হবে—এটাই ছিল একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা। পরস্পরের বিরুদ্ধে একটা শক্তি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ এবং সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।বাংলাদেশের ডামাডোলপূর্ণ রাজনীতিতে বিরোধী দলের সংসদ বয়কট করা একটি পুরোনো ব্যাধি। নির্বাচনের পর সংসদ বয়কটের পক্ষে প্রথমেই যে যুক্তিটি গুরুত্ব পায় তা হচ্ছে সংসদে যোগ দেওয়া মানেই হলো সরকারি দলের অনিয়মকে মেনে নেওয়া, তাদের সরকার ও সংসদকে বৈধতা দেওয়া। এবারও সেই প্রশ্ন উঠেছে।
কিন্তু গত এক দশকে সেই ধারার অবসান ঘটেছে। সভা-সমাবেশ না করতে দেওয়া এবং গায়েবি মামলার যে চর্চা শুরু হয়েছে তা সহজে ভাঙবে না। এখন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট যদি মনে করে বিদেশি কূটনীতিকেরা খুব সহায়ক হবে, সেটা ভুল হবে। তারা দলিল-দস্তাবেজ নিয়ে জনসভায় নয়, কূটনীতিকদের শরণাপন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে সরকারি দল আমাদের কল্পনাশক্তিকেও হার মানানো বিজয় পেয়ে সম্ভবত ঈষৎ ম্রিয়মাণ। তাদের এই অনুমেয় দুর্বলতাকে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ হিসেবে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট কাজে লাগাতে পারে। তবে সে জন্য তাদের সংসদে যেতে হবে। যেসব কারণে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সংসদে যাওয়া উচিত বলে মনে করি তা ধারাবাহিকভাবে এখানে উল্লেখ করছি।
প্রথমত, বিএনপি তার রাজনৈতিক দুরবস্থা থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারবে বলে মনে হয় না। তারেক রহমান লন্ডনে বসে নেতৃত্বে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেন না। খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত। বড়জোর তিনি কারামুক্তি লাভ করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন। মা ও ছেলের অবস্থানের কারণে তাঁদের নেতৃত্বে দলে নতুন কোনো গতিসঞ্চারের সুযোগ নেই।
দ্বিতীয়ত, মনে করা হয়ে থাকে যে খালেদা জিয়ার পরিবারের মধ্য থেকে কেউ একজন এগিয়ে আসবেন। কিন্তু এর মধ্যে যাঁদের নাম শোনা যায় তাঁদের কেউ একান্ত হাল ধরলেই যে অবস্থা আমূল বদলে যাবে, এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। কোনো বিশেষজ্ঞের পক্ষেই এটা জোর দিয়ে বলা সম্ভব নয় যে তাঁরা হঠাৎ করেই রাজনীতিতে আসবেন এবং একটা গতিসঞ্চার করবেন। ফলে এমন একটি পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপি সংসদে গেলে বরং তিনি একটি ভালো ভাবমূর্তি গড়ার চেষ্টা করতে পারেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিজয়ী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আমাকে বলেছেন, তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইবেন। যাঁরা ভাবছেন, মির্জা ফখরুলকে সংসদে পাঠালে জিয়া পরিবারের প্রভাব আরও কমবে, তার চেয়ে বয়কটই ভালো। কিংবা জিয়া পরিবার না থাকলে দল রেখে কী লাভ, তাঁদের যুক্তি কিংবা আবেগকে নাকচ করার সুযোগ নেই। তবে এই প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পাঁচ বছরের বেশি সময় তাঁর পরিবারের কেউ দলটির হাল ধরেননি। কিন্তু অনুকূল পরিবেশ আসামাত্রই শেখ হাসিনা এগিয়ে এসেছেন। সুতরাং মির্জা ফখরুল বা কাউকে না কাউকে এখন জোহরা তাজউদ্দীন বা আসাদুজ্জামান খানের (৩৯ আসন নিয়ে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন) ভূমিকা পালন করতে হবে।
তৃতীয়ত, সংসদ বয়কটের কারণে ক্ষমতাসীন দল চাপের মুখে পড়েছে এমন দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেই। পঞ্চম সংসদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যখন ১৪৭ জন সাংসদ পদত্যাগ করেছিলেন, তখনো কিন্তু সরকারের পতন ঘটেনি। সবচেয়ে বড় কথা বিরোধী দল তখনকার দিনে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারত, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে তা অনুপস্থিত।

About The Author

Number of Entries : 3254

Leave a Comment

মুক্তগাছা ভবন, বাড়ি নং -১৩, ব্লক -বি, প্রধান সড়ক, নবোদয় হাউজিং, আদাবর, ঢাকা-১২০৭; সম্পাদক ও প্রকাশক; আলহাজ্ব মোঃ সাদিকুর রহমান বকুল ; জাতীয় দৈনিক আজকের নতুন খবর;

Scroll to top