৩০০ টাকায় দিয়ো শুরু, বর্তমানে বাৎসরিক আয় সাড়ে সাত কোটি টাকা আন্তর্জাতিক ডেস্ক, Reviewed by Momizat on . কিছু করার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন। কিন্তু তেমন কোনো প্রথাগত শিক্ষা ছিল না তার এমনকি সম্পদ বলতে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা। তবে শূণ্য থেকে শুরু করার পর তারই এখন বা কিছু করার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন। কিন্তু তেমন কোনো প্রথাগত শিক্ষা ছিল না তার এমনকি সম্পদ বলতে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা। তবে শূণ্য থেকে শুরু করার পর তারই এখন বা Rating: 0
You Are Here: Home » আইন ও বিচার » ৩০০ টাকায় দিয়ো শুরু, বর্তমানে বাৎসরিক আয় সাড়ে সাত কোটি টাকা আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

৩০০ টাকায় দিয়ো শুরু, বর্তমানে বাৎসরিক আয় সাড়ে সাত কোটি টাকা আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

৩০০ টাকায় দিয়ো শুরু, বর্তমানে বাৎসরিক আয় সাড়ে সাত কোটি টাকা  আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

কিছু করার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন। কিন্তু তেমন কোনো প্রথাগত শিক্ষা ছিল না তার এমনকি সম্পদ বলতে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা। তবে শূণ্য থেকে শুরু করার পর তারই এখন বাৎসরিক আয় সাড়ে সাত কোটি টাকা। সফলতার এই গল্প বাস্তবে সত্যি করেছেন ভারতের বেঙ্গালুরুর মেয়ে চিনু। প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘রুবানস অ্যাকসেসরিজ’ নামের প্রতিষ্ঠান।

মাত্র পনের বছর বয়সে একটি সংস্থার হয়ে ঘরে ঘরে ঘুরে ছুরি-কাঁচি, কাপ-ডিশ ও ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করতে শুরু করেন চিনু। রাতে যেখানে থাকতেন তার ভাড়া দিতে হতো ২০ টাকা করে। অনেক সময় থাকার জায়গার ভাড়া দিতে না পারায় রাস্তায়ও রাত কাটিয়েছেন।

কাজের জায়গায় কঠোর শ্রম ও নিয়মানুবর্তিতা দেখিয়ে এক বছরের মধ্যেই ‘সুপারভাইজার’ পদে উন্নীত হন তিনি। বেতনও বাড়ে কিছুটা। তখন থেকেই একটু একটু করে নিজের ব্যবসা তৈরির স্বপ্ন বুনতে থাকেন চিনু। কয়েক বছর ওই সংস্থায় কাজ করে কিছু টাকা জমিয়ে সাহস করে এক দিন ইন্টারভিউ দেন এক রেস্তরাঁয়।

চিনুর জেদ ও কিছু করে দেখানোর মানসিকতা পছন্দ হয় রেস্তরাঁ মালিকের। জুটে যায় রেস্তরাঁকর্মীর কাজ। তবে এই কাজ সন্ধে ছ’টা থেকে রাত ১১টা অবধি। তাই সেলসের চাকরিটাও ছাড়েন না চিনু। সকালে ঘরে ঘরে ঘুরে বিক্রি সেরে সন্ধে ছ’টার আগে পৌঁছে যেতেন রেস্তরাঁয়।

কয়েক বছর এমন অমানুষিক পরিশ্রম করার মধ্যেই জীবনের আর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন চিনু। ২০০৪ সালে বিয়ে করেন দীর্ঘ দিনের বন্ধু ও প্রেমিক অমিত কালাকে। এরপর ব্যাঙ্গালুরু শহর ছাড়েন তিনি।

ছাড়েন ছোটবেলার শহর বেঙ্গালুরু। এর পর অমিতের জোরাজুরিতেই নাম দেন একটি বেসরকারি চ্যানেলের রিয়েলিটি শোয়ে। ঘরে-বাইরে সামাল দেওয়া গৃহিণীদের শ্রম ও নিষ্ঠাকে কুর্ণিশ জানানো ও নারীশক্তির চমকপ্রদ ঘটনাগুলোকে সকলের সামনে তুলে আনাই ছিল সেই রিয়েলিটি শোয়ের লক্ষ্য। চিনু এই শোয়ের চূড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত পৌঁছান। তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন তিনি নিজেও। যদিও পুঁথিগত শিক্ষা না থাকার ভয় তখনও তাড়া করে বেড়াত চিনুকে।

এই রিয়েলিটি শোই ‘আশীর্বাদ’ হয়ে আসে চিনুর জীবনে। একের পর এক মডেলিংয়ের অফার আসতে থাকে তার কাছে। নানা বিষয়ের মডেলিং করলেও ফ্যাশন জুয়েলারির প্রতি তার একটা আগ্রহ ছিলই। এত দিনের চাকরি ও মডেলিংয়ের টাকাপয়সা জমিয়ে ২০১৪ সালে ‘রুবানস’ খোলেন চিনু।

তবে এই ধরনের ব্যবসা খুব বড় আকারে শুরু করার মতো অর্থবল তখনও ছিল না তার। বেঙ্গালুরুতে মাত্র ৬ বাই ৬ ফুট একটি ঘরেই শুরু হয় রুবানসের অফিস। পুরনো যুগের ও পাশ্চাত্যের নকশাদার গয়না তৈরি করতে শুরু করে তারা। ২২৯ থেকে ১০ হাজার- নানা দামেরই গয়নার সম্ভার রাখেন চিনু।

রুবানসের নিজস্বতা ও আকর্ষণীয় নকশার আগ্রহী হয়ে পড়েন তারকা থেকে সাধারণ ক্রেতা। মাত্র ৬ মাসেই বিপুল লাভের মুখ দেখে রুবানস। অফিস বড় হয়, ব্যবসা নিয়েও আরও নতুন করে ভাবেন চিনু। বাড়িয়ে তোলেন রুবানসকে। কোচি ও হায়দরাবাদে শুরু হয় নতুন শো রুম।

দেশের বড় বড় মলেও শো রুম খোলেন তিনি। ২০১৬-১৭ সালে ৫৬ লক্ষ টাকা লাভের মুখ দেখে রুবানস। পরের বছর সে লাভ লাফিয়ে বাড়ে ৩.৫ কোটিতে। ২০১৮-১০১৯ সালে এই লভ্যাঙ্ক ছুঁয়েছে ৭.৫ কোটিতে! বিপুল টাকার মালিক হলেও পুরনো দিনের কথা ভাবতে বসলে আজও চোখের কোণ ভিজে যায় চিনুর।

বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এক সময় সাফল্য বলতে বুঝতেন নিজের রোজের খাওয়া ও ডরমেটরির খরচটুকু তোলা। আজ সাফল্যর মানে বদলেছে। ব্যবসায়িক লাভের পাশাপাশি অন্যের জন্য কিছু করার কথাও ভাবেন তিনি। পরিশ্রম করতে ইচ্ছুক মানুষদের চাকরিতে নিয়োগ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোই নতুন জীবন দেওয়াই এখন আনন্দ দেয় তাকে।

নতুনখবর/তুম

About The Author

Number of Entries : 634

Leave a Comment

মুক্তগাছা ভবন, বাড়ি নং -১৩, ব্লক -বি, প্রধান সড়ক, নবোদয় হাউজিং, আদাবর, ঢাকা-১২০৭; সম্পাদক ও প্রকাশক; আলহাজ্ব মোঃ সাদিকুর রহমান বকুল ; জাতীয় দৈনিক আজকের নতুন খবর;

Scroll to top